বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদার এক-চতুর্থাংশ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখে ভারত। এক্ষেত্রে শীর্ষে আছে এশিয়ার আরেক দেশ চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) বলছে, ২০২৪ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়াতে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে ভারত। এক্ষেত্রে প্রধান ভোক্তা দেশ চীনকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে দেশটি। আগামী বছরও এ প্রবণতা বজায় থাকবে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
ইআইএ বলেছে, ভারতের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং গাড়ি ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে, যা বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ানোর পেছনেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন সংস্থাটি জানিয়েছে, ডিসেম্বরে প্রকাশিত শর্ট-টার্ম এনার্জি আউটলুক (এসটিইও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধিতে ভারত নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশটি চলতি বছর চীনকে অতিক্রম করেছে। ২০২৫ সালেও ভারত জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা বাড়ার প্রধান উৎস হবে।
১৯৯৮-২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই চীনের জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির হার ভারতের তুলনায় বেশি ছিল। তবে এ সময়ে চীনের চাহিদা অন্যান্য দেশের তুলনায় ধারাবাহিকভাবে বেশি বেড়েছে।
ইআইএর পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা ২৫ শতাংশ বাড়ার পেছনে ভারত ভূমিকা রাখবে। ২০২৪ সালে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা প্রতিদিন নয় লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে। ২০২৫ সালে তা আরো বেড়ে ১৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, পরিবহন ও রান্নার কাজে জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় ভারতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার ২০২৪ সালে দৈনিক ২ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল এবং ২০২৫ সালে ৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। ইআইএর মতে, এ হার বিশ্বের সব দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনে জ্বালানি তেলের ব্যবহার দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল এবং ২০২৫ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে ব্যবহার বাড়ায় জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। তবে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাড়তি ব্যবহার, জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি দেশটির পরিবহন খাতে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির হারকে সীমিত করেছে।
সংস্থাটি আরো বলেছে, ‘শতাংশ ও পরিমাণগত দিক থেকে ভারতে চাহিদা বৃদ্ধির হার চীনের তুলনায় বেশি। তবে চীন এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি জ্বালানি তেল ব্যবহার করে।’